নির্বাচনে বিজয়ী নবনির্বাচিত এমপিরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নেতারা পুনরায় বিজয়ী বেশে সংসদ ভবনের আঙিনায় পা রাখছেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এবারের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

রেওয়াজ অনুযায়ী, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে প্রথমে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যার ফলে দলটি দীর্ঘ দুই দশক পর একক শক্তিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় আজ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর সংসদের মিছিলে শামিল হওয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের বিশেষ আবেগ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েও কারচুপির অভিযোগে প্রত্যাখান করা দলটি এবার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সংসদে ফিরছে। এই শপথের মধ্য দিয়েই সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আইনপ্রণেতার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

আজকের এই শপথ অনুষ্ঠানের পরই দুপুরে সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।